কারক, অকারক ও বিভক্তি: সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নোটস
WB Primary TET, Upper Primary TET, CTET, SLST, WBPSC ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য
📌 পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কারক ও বিভক্তির গুরুত্ব:
বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম ভিত্তি হলো কারক ও বিভক্তি নির্ণয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নির্ভুল উত্তরের জন্য মৌলিক সংজ্ঞার পাশাপাশি গভীর শ্রেণিবিভাগ, ব্যতিহার/প্রযোজ্য রূপ এবং বিশেষ জটিল প্রয়োগগুলো স্পষ্টভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম ভিত্তি হলো কারক ও বিভক্তি নির্ণয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নির্ভুল উত্তরের জন্য মৌলিক সংজ্ঞার পাশাপাশি গভীর শ্রেণিবিভাগ, ব্যতিহার/প্রযোজ্য রূপ এবং বিশেষ জটিল প্রয়োগগুলো স্পষ্টভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
📌 পাঠ্য বিষয়বস্তু
১. কারক ও অকারকের মৌলিক ধারণা
কারক ও অকারকের পরিচয়
কারক: বাক্যস্থিত সমাপিকা ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) যে প্রত্যক্ষ অন্বয় বা সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
পাণিনির সূত্র: “ক্রিয়াস্বয়ী কারকম্” (অর্থাৎ ক্রিয়ার সঙ্গে অন্বয়যুক্ত পদই কারক)।
ব্যুৎপত্তি: কৃ + অক (ণ্বুল্); অর্থ: ‘যে ক্রিয়া সম্পাদন করে’।
অকারক পদ: বাক্যের যেসব নামপদের সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়াপদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকে না, অথচ অন্য নামপদের সঙ্গে সম্বন্ধ থাকে, তাদের অকারক পদ বলে। বাংলায় অকারক সম্পর্ক ২ প্রকার (সম্বন্ধ পদ ও সম্বোধন পদ)।
২. বিভক্তি, অনুসর্গ ও নির্দেশকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিভক্তি (Inflection)
যেসব বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদ গঠন করে, তাদের বিভক্তি বলে।
শব্দ-বিভক্তি (নাম-বিভক্তি): শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কারক নির্দেশ করে (যেমন: ০, এ, য়, তে, কে, রে, র, এর)।
ধাতু-বিভক্তি (ক্রিয়া-বিভক্তি): ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে (যেমন: পড়্ + ছি = পড়ছি; ‘ছি’ ধাতু-বিভক্তি)।
শূন্য বিভক্তি (অ-বিভক্তি): যে বিভক্তি শব্দকে পদে রূপান্তর করেও নিজে অপ্রকাশিত থাকে।
তির্যক বিভক্তি: যে বিভক্তি একাধিক কারকে ব্যবহৃত হতে পারে (যেমন: ‘এ’, ‘তে’, ‘কে’ বিভক্তি)।
অনুসর্গ ও নির্দেশক
অনুসর্গ (পরসর্গ / কর্মপ্রবচনীয়): যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে পৃথকভাবে বসে বিভক্তির কাজ সম্পন্ন করে (যেমন: দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হইতে, থেকে, চেয়ে, জন্য, তরে, বিনা, সহ)।
নামজাত অনুসর্গ: ক্রিয়ামূল ছাড়া গঠিত (যেমন: জন্য, অপেক্ষা, উপরে)।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: ক্রিয়ামূল বা ধাতু থেকে উৎপন্ন (যেমন: করে, থেকে, ধরে)।
নির্দেশক: যেসব চিহ্ন বিশেষ্য বা বিশেষণের সাথে যুক্ত হয়ে পদের নির্দিষ্টতা বা বচন নির্ধারণ করে (যেমন: টি, টা, খানি, খানা, গুলি, গুলো)।
| বৈশিষ্ট্য | বিভক্তি | অনুসর্গ |
|---|---|---|
| অবস্থান | শব্দের সাথে একাত্ম হয়ে জুড়ে থাকে। | শব্দের পরে পৃথকভাবে স্বাধীনভাবে বসে। |
| অর্থ | নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। | অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজস্ব অর্থ থাকে। |
| পদের রূপ | বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ (শব্দাংশ বা রূপমূল)। | স্বয়ং একটি অব্যয় পদ। |
৩. কারক নির্ণয়ের মাস্টার চার্ট
| কারক | নির্ণয়ের প্রশ্ন | প্রধান রূপ / বিভক্তি / অনুসর্গ | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১. কর্তৃকারক | কে / কারা / কে করায় | বিভক্তি প্রধান (০, এ, তে, য়) | ঝিলিক বই কিনেছে। |
| ২. কর্মকারক | কী / কাকে | বিভক্তি প্রধান (০, কে, রে) | ঝিলিক বই কিনেছে। |
| ৩. করণকারক | কী দিয়ে / কীসের সাহায্যে / কী লক্ষণ দ্বারা | অনুসর্গ ও বিভক্তি প্রধান (দ্বারা, দিয়ে, এ, তে) | ঝিলিক টাকা দিয়ে কিনেছে। |
| ৪. নিমিত্ত কারক | কার জন্য / কীসের নিমিত্তে | অনুসর্গ প্রধান (জন্য, তরে, কে) | পরির জন্য কিনেছে। |
| ৫. অপাদান কারক | কোথা থেকে / কী হতে / কীসে ভয় | অনুসর্গ প্রধান (হইতে, থেকে, চেয়ে) বা বিভক্তি | বইমেলা থেকে কিনেছে। |
| ৬. অধিকরণ কারক | কোথায় / কখন / কী বিষয়ে / কী ভাবে | বিভক্তি প্রধান (এ, তে, য়, ০) | ঝিলিক আজ বই কিনেছে। |
৪. প্রতিটি কারকের বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ ও উদাহরণ
ক) কর্তৃকারক
প্রযোজক কর্তা: নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে করায় (উদা: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন)।
প্রযোজ্য কর্তা: প্রযোজক কর্তার প্রেরণায় যে কাজ করে (উদা: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন)।
ঊহ্য কর্তা: বাক্যে কর্তা অপ্রকাশিত থাকলে (উদা: [তুমি] এখানে এসো)।
অনুক্ত কর্তা: কর্মবাচ্য বা ভাববাচ্যে কর্তা প্রধানভাবে উক্ত না হলে (উদা: আমার দ্বারা এ কাজ হবে না)।
কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা: কর্তা অনুপস্থিত থেকে কর্মই কর্তার ভূমিকা পালন করলে (উদা: বাঁশি বাজে, ভাঙল সুখের হাট)।
ব্যতিহার কর্তা: দুই কর্তার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বা বিরোধ বোঝালে (উদা: রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, পণ্ডিতে পণ্ডিতে তর্ক করে)।
সহযোগী কর্তা: দুই কর্তার মধ্যে সহযোগিতার ভাব প্রকাশ পেলে (উদা: বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খায়)।
নিরপেক্ষ কর্তা: একই বাক্যে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা পৃথক হলে অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তাকে বলে (উদা: সূর্য উঠলে পদ্ম ফোটে)।
সমধাতুজ কর্তা: ক্রিয়া ও কর্তা একই ধাতু থেকে গঠিত হলে (উদা: পরিশ্রমের ফল নিশ্চিতভাবেই ফলবে)।
সাধন কর্তা: কোনো উপকরণ বাক্যের কর্তারূপে বসলে (উদা: ডায়েরির পুরনো পাতাগুলো স্মৃতিকে জাগায়)।
এক ক্রিয়ার বহু কর্তা: একাধিক কর্তা একটি ক্রিয়া সম্পাদন করলে (উদা: পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি ফিরে এল)।
বহু ক্রিয়ার এক কর্তা: একজন কর্তা একাধিক ক্রিয়া সম্পন্ন করলে (উদা: রাহুল ভাত খেয়ে, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে গেল)।
বাক্যাংশ কর্তা: সমাপিকাহীন পদসমষ্টি কর্তার কাজ করলে (উদা: ‘পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা’ ভালো কাজ নয়)।
উপবাক্যীয় কর্তা: বিশেষ্যধর্মী অপ্রধান উপবাক্য কর্তা হলে (উদা: ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’— এ নহে মোর প্রার্থনা)।
খ) কর্মকারক
মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মটি মুখ্য কর্ম (সাধারণত ০ বিভক্তি) এবং প্রাণীবাচক কর্মটি গৌণ কর্ম (সাধারণত ‘কে’ বিভক্তি) (উদা: বিকাশ আমাকে [গৌণ] একটি গোলাপ [মুখ্য] দিল)।
উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম: একই কর্মের পরিপূরক হিসেবে দ্বিতীয় পদ বসলে মূল কর্মটি উদ্দেশ্য কর্ম এবং পরিপূরক পদটি বিধেয় কর্ম (উদা: অর্থকেই [উদ্দেশ্য] মানুষ পরমার্থ [বিধেয়] জ্ঞান করে)।
সমধাতুজ কর্ম: ক্রিয়া ও কর্ম একই ধাতু থেকে উৎপন্ন (উদা: মেয়েটি মিষ্টি হাসি হাসল)।
অসমাপিকা ক্রিয়ারূপ কর্ম: অসমাপিকা ক্রিয়া কর্মের কাজ করলে (উদা: বাঁচতে চাই আমরা সবাই)।
বাক্যাংশ কর্ম: একটি পদগুচ্ছ কর্মের ভাব পেলে (উদা: তার অসময়ে নাম ধরে ডাকা আমি পছন্দ করি না)।
উপবাক্যীয় কর্ম: অপ্রধান খণ্ডবাক্য প্রধান ক্রিয়ার কর্ম হলে (উদা: মনে রেখো, সততাই একমাত্র মূলধন)।
কর্মের বীপ্সা: কর্মপদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে (উদা: যা যা শুনেছ মনে রেখো, কাকে কাকে ডাকলে?)।
অক্ষুণ্ণ কর্ম: বাচ্য পরিবর্তনেও যেসব কর্ম অপরিবর্তিত থাকে (উদা: তোমাকে সেদিন আমি সত্যিটাই জানিয়েছিলাম)।
উহ্য কর্ম: বাক্যে কর্ম অনুল্লিখিত থাকলে (উদা: সুব্রত অনেকক্ষণ থেকে খুঁজছে [কী খুঁজছে—উহ্য])।
গ) করণ কারক
যন্ত্রাত্মক করণ: স্থূল বা ইন্দ্রিয়গোচর বস্তুর সাহায্যে কাজ সম্পন্ন হলে (উদা: ছুরি দিয়ে ফল কাটো, কলমে লিখি)।
উপায়াত্মক করণ: মানসিক বা ভাবগত উপায়ের সাহায্যে কাজ হলে (উদা: বক্তৃতার বাহাদুরিতে পেট ভরে না, টাকায় [টাকার দ্বারা] কিনা হয়)।
লক্ষণাত্মক বা উপলক্ষণাত্মক করণ: কোনো বাহ্যিক লক্ষণ বা চিহ্ন দেখে চেনা বোঝালে (উদা: শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়, তিনি পোশাকে ভদ্রলোক)।
কালাত্মক করণ: সময়বাচক শব্দের দ্বারা করণ বোঝালে (উদা: সে সাত দিনে পড়া শেষ করল)।
সমধাতুজ করণ: ক্রিয়া ও করণ একই ধাতু থেকে নিষ্পন্ন (উদা: কী বাঁধনে মোরে বেঁধেছ)।
করণের বীপ্সা: করণ পদের পুনরাবৃত্তি হলে (উদা: পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী, গানে গানে রাত্রি ভরিয়ে তোলো)।
ঘ) নিমিত্ত কারক
সংজ্ঞা: যার জন্য বা যে উদ্দেশ্যে কোনো ক্রিয়া সম্পাদিত হয় (WBBSE ১৯৮৯ সালে সম্প্রদান কারকের পরিবর্তে নিমিত্ত কারক চালু করে)।
উদাহরণ: বেলা যে পড়ে এল জলকে চলো (জল আনার নিমিত্তে), অন্ধজনে দেহ আলো, লেখাপড়ার জন্য স্কুলে এসেছি, মরার তরে পিপীলিকার পাখা ওঠে।
ঙ) অপাদান কারক
স্থানবাচক অপাদান: নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিচ্যুতি বা প্রস্থান বোঝালে (উদা: গোলাপটি হাত থেকে পড়ে গেল, ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ল)।
কালবাচক অপাদান: নির্দিষ্ট সময় থেকে কাজ শুরু হওয়া বোঝালে (উদা: সকাল থেকেই মন খারাপ, কাল থেকে পরীক্ষা শুরু)।
অবস্থানবাচক অপাদান: স্থানচ্যুতি না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে ক্রিয়া সম্পাদিত হলে (উদা: ছেলেরা ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে)।
দূরত্ববাচক অপাদান: দুই স্থানের দূরত্ব নির্দেশ করলে (উদা: ব্যান্ডেল রানাঘাট থেকে অনেক দূর)।
ভীতিবাচক অপাদান: ভয় বা শঙ্কার উৎস বোঝালে (উদা: বাঘের ভয় কার না আছে?, বিপদে মোরে রক্ষা করো [বিপদ থেকে রক্ষা])।
বিকৃতিবাচক অপাদান: বস্তুগত রূপান্তর বা বিকার বোঝালে (উদা: দুধে ছানা হয়, তিলে তেল হয়)।
তারতম্যবাচক অপাদান: তুলনা বা তারতম্য বোঝালে (উদা: মধুর চেয়েও মিষ্টি, দুধ অপেক্ষা জল সস্তা)।
অসমাপিকা ক্রিয়াবাচক অপাদান: অসমাপিকা ক্রিয়া অপাদানের ভাব প্রকাশ করলে (উদা: তিনি বলতে [বলা থেকে] বিরত হলেন)।
চ) অধিকরণ কারক
স্থানাধিকরণ: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান। এটি ৩ প্রকার:
• একদেশসূচক: সমগ্র স্থানের নির্দিষ্ট অংশে ক্রিয়া ঘটলে (উদা: চোখের কোণে একটু হাসলে তুমি)।
• ব্যাপ্তিসূচক: সমগ্র স্থান জুড়ে ক্রিয়া ঘটলে (উদা: শশীর মনে দ্বন্দ্ব ছিল, তিলমাত্রে তেল আছে)।
• সামীপ্যসূচক: নৈকট্য বা কাছাকাছি বোঝাতে (উদা: দরজায় এত ভিড় কিসের?, দুয়ারে দাঁড়িয়ে অতিথি)।
• একদেশসূচক: সমগ্র স্থানের নির্দিষ্ট অংশে ক্রিয়া ঘটলে (উদা: চোখের কোণে একটু হাসলে তুমি)।
• ব্যাপ্তিসূচক: সমগ্র স্থান জুড়ে ক্রিয়া ঘটলে (উদা: শশীর মনে দ্বন্দ্ব ছিল, তিলমাত্রে তেল আছে)।
• সামীপ্যসূচক: নৈকট্য বা কাছাকাছি বোঝাতে (উদা: দরজায় এত ভিড় কিসের?, দুয়ারে দাঁড়িয়ে অতিথি)।
কালাধিকরণ: ক্রিয়া সম্পাদনের সময়। এটি ২ প্রকার:
• ক্ষণমূলক: সংক্ষিপ্ত নির্দিষ্ট মুহূর্ত (উদা: আজ সকাল ছটায় ঘুম ভাঙল)।
• ব্যাপ্তিমূলক: দীর্ঘ সময়ব্যাপী (উদা: শীতকালে রাত বড় হয়)।
• ক্ষণমূলক: সংক্ষিপ্ত নির্দিষ্ট মুহূর্ত (উদা: আজ সকাল ছটায় ঘুম ভাঙল)।
• ব্যাপ্তিমূলক: দীর্ঘ সময়ব্যাপী (উদা: শীতকালে রাত বড় হয়)।
বিষয়াধিকরণ: কোনো বিষয়, বিদ্যা বা বিদ্যাবত্তায় পারদর্শিতা/অপারদর্শিতা বোঝালে (উদা: ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা কিন্তু ইংরেজিতে ভালো, মেয়েটি বুদ্ধিতে বৃহস্পতি)।
ভাবাধিকরণ (ভাবে সপ্তমী): একটি ক্রিয়ার প্রভাবে অন্য ক্রিয়া সম্পন্ন হলে (উদা: সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়)।
অধিকরণের বীপ্সা: অধিকরণ পদের পুনরাবৃত্তি হলে (উদা: গাছে গাছে ফুল ফোটে, পাতায় পাতায় রোদ হাসে)।
৫. অকারক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ রূপ
ক) সম্বন্ধ পদ
বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিন্তু পরবর্তী বিশেষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তিযুক্ত পদ। এর বিভক্তি কখনো লোপ পায় না।
কারক-সম্বন্ধীয় শ্রেণি:
• কর্তৃ-সম্বন্ধ: ভায়ের প্রীতি, মায়ের স্নেহ
• কর্ম-সম্বন্ধ: বিদ্যার চর্চা, ঈশ্বরের সাধনা
• করণ-সম্বন্ধ: হাতের কাজ, চোখের দেখা
• নিমিত্ত-সম্বন্ধ: পড়ার ঘর, খাবার জল
• অপাদান-সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, চোখের জল
• অধিকরণ-সম্বন্ধ: বনের হরিণ, জলের মাছ
• কর্তৃ-সম্বন্ধ: ভায়ের প্রীতি, মায়ের স্নেহ
• কর্ম-সম্বন্ধ: বিদ্যার চর্চা, ঈশ্বরের সাধনা
• করণ-সম্বন্ধ: হাতের কাজ, চোখের দেখা
• নিমিত্ত-সম্বন্ধ: পড়ার ঘর, খাবার জল
• অপাদান-সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, চোখের জল
• অধিকরণ-সম্বন্ধ: বনের হরিণ, জলের মাছ
অন্যান্য সম্বন্ধ: উপাদান-সম্বন্ধ (সোনার আংটি), অভেদ-সম্বন্ধ (বিদ্যার সাগর), গুণ-সম্বন্ধ (দিনের আলো), অসম্ভব-সম্বন্ধ (ঘোড়ার ডিম, সোনার পাথরবাটি), কার্যকারণ-সম্বন্ধ (সূর্যের তাপ), আধার-আধেয়-সম্বন্ধ (শিশির ওষুধ), বীপ্সা-সম্বন্ধ (সুখের সুখী)।
খ) সম্বোধন পদ
যে পদের দ্বারা কাউকে আহ্বান বা সম্বোধন করা হয়।
বিভক্তি: সাধারণত শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয় (উদা: মা, আমায় মানুষ কর; ও মেয়ে, শুনে যাও)। তবে প্রাচীন ও কাব্যের প্রয়োগে ‘রে’, ‘এ’, ‘হে’ প্রত্যয়ও বসে (উদা: ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে)।
৬. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশেষ টিপস ও প্যাঁচালো নিয়মাবলী (Exam Corner)
📌 একই শব্দের কারক রূপান্তর (Very Important):
• সর্বপাপ হরিল গঙ্গায় → কর্তৃকারকে ‘য়’ বিভক্তি।
• ভক্তিভরে পূজিনু গঙ্গায় → কর্মকারকে ‘য়’ বিভক্তি।
• বর্ষায় জেলেরা গঙ্গায় ইলিশ ধরে → অপাদান কারকে ‘য়’ বিভক্তি।
• গঙ্গায় মাঝে মাঝে হাঙর দেখা যায় → অধিকরণ কারকে ‘য়’ বিভক্তি।
গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি নিরসন
কর্ম বনাম নিমিত্ত কারক বিভ্রাট:
• ধোপাকে কাপড় দাও → কর্মকারক (স্বত্ব ত্যাগ ছাড়া বা সেবা বিনিময়)।
• ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও → নিমিত্ত কারক (সম্পূর্ণ স্বত্ব ত্যাগ বা নিঃস্বার্থ দান)।
• ধোপাকে কাপড় দাও → কর্মকারক (স্বত্ব ত্যাগ ছাড়া বা সেবা বিনিময়)।
• ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও → নিমিত্ত কারক (সম্পূর্ণ স্বত্ব ত্যাগ বা নিঃস্বার্থ দান)।
টাকা শব্দের কারক বিভাজন:
• টাকায় টাকা হয় → অপাদান কারক (উৎপত্তি অর্থে)।
• টাকায় কিনা হয় → করণ কারক (উপায় বা মাধ্যম অর্থে)।
• টাকায় টাকা হয় → অপাদান কারক (উৎপত্তি অর্থে)।
• টাকায় কিনা হয় → করণ কারক (উপায় বা মাধ্যম অর্থে)।
কারক বিভক্তি বনাম উপপদ বিভক্তি:
• কারক বিভক্তি: যা সরাসরি ক্রিয়াপদের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বসে (যেমন: বইমেলা থেকে কিনেছে)।
• উপপদ বিভক্তি: বাক্যের বিশেষ কোনো শব্দের উপস্থিতির কারণে ক্রিয়ার সম্পর্ক ছাড়াই যে বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: ‘ভয়ে’ কম্পিত → ‘ভয়’ শব্দের যোগে ৩য়া বিভক্তি)।
• কারক বিভক্তি: যা সরাসরি ক্রিয়াপদের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বসে (যেমন: বইমেলা থেকে কিনেছে)।
• উপপদ বিভক্তি: বাক্যের বিশেষ কোনো শব্দের উপস্থিতির কারণে ক্রিয়ার সম্পর্ক ছাড়াই যে বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: ‘ভয়ে’ কম্পিত → ‘ভয়’ শব্দের যোগে ৩য়া বিভক্তি)।
